খেলা, সর্বশেষ

খেলা, সর্বশেষ

বিশ্বকাপের ড্রেসিংরুম কেমন হয়, কী কী থাকে

বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে মাঠের লড়াই নিয়ে উত্তেজনার শেষ নেই। কিন্তু টানেলের ওপারে থাকা ড্রেসিংরুমের রহস্যময় দুনিয়াটি কেমন, তা অনেকেরই অজানা। আধুনিক প্রযুক্তিতে ঠাসা এই ড্রেসিংরুমগুলো কোনো সাধারণ কক্ষ নয়, বরং এটি ফাইভ স্টার হোটেল এবং অত্যাধুনিক গবেষণাগারের এক চমৎকার সংমিশ্রণ।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপ আয়োজনকারী স্টেডিয়ামের দুই দলের ড্রেসিংরুমের আকার ও সুযোগ-সুবিধা হুবহু সমান হতে হয়। এর প্রধান কারণ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, যাতে কোনো দলই বাড়তি সুবিধা না পায়। প্রতিটি ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত লকার, আরামদায়ক বসার জায়গা, কৌশল বিশ্লেষণের জন্য ডিজিটাল স্ক্রিন বা হোয়াইটবোর্ড, ম্যাসাজ টেবিল, সেন্ট্রাল এসি, হিটার এবং হাই-স্পিড ইন্টারনেট সংযোগসহ সব ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা থাকে।

খেলোয়াড়দের দ্রুত রিকভারি বা সুস্থতার বিষয়টি মাথায় রেখে ড্রেসিংরুমের পাশেই রাখা হয় আইস বাথ বা কোল্ড প্লাঞ্জ টাব, যা পেশির ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া ফিজিওথেরাপি ও চিকিৎসার জন্য আলাদা কর্নার এবং ব্যক্তিগত গোসলের জায়গাও থাকে।

মাঠের বাইরে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ কতটা সুশৃঙ্খল হতে পারে, তার নজির বহুবার দেখিয়েছে জাপান। ডালাসে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের পর জাপানি ফুটবলাররা যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে ড্রেসিংরুম ঝকঝকে করে রেখে এসেছিলেন, তা বিশ্ব ফুটবলের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। শুধু জাপানিরাই নয়, ইরানের খেলোয়াড়রাও এবারের বিশ্বকাপে আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে চিঠি রেখে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

মূলত, বিশ্বকাপের একটি ড্রেসিংরুম শুধু আসবাব বা প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে না; সেখানে খেলোয়াড়দের দেওয়া সম্মান ও দায়িত্ববোধই আসল সৌন্দর্য। টানেলের ওপারে থাকা এই গোপন দুনিয়াটি সম্পর্কে জানা থাকলে ফুটবল দেখার অভিজ্ঞতা আরও গভীর ও আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত