
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ৭ উইকেটে জয় পেলেও সিরিজ হারের গ্লানি মুছতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ খোয়ানোর পর শেষ ম্যাচে জয় পেলেও দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্ব ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত মিরাজের ওপর আস্থা রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), কিন্তু তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও নেতৃত্বের ধরন ক্রিকেট মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ওয়ানডে ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত ২৪ ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মিরাজ। এর মধ্যে ১০টি জয় ও ১৩টি হারের বিপরীতে একটি ম্যাচ হয়েছে টাই। তার জয়ের হার ৪১.৬৬ শতাংশ। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের মাটিতে তার রেকর্ড সন্তোষজনক হলেও বিদেশের মাটিতে মিরাজের নেতৃত্ব বেশ দুর্বল। দেশের বাইরে খেলা ১৩ ওয়ানডের মধ্যে মাত্র দুটিতে জিতেছে দল।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মিরাজের নেতৃত্ব ছিল সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ১৪২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ব্যাটিং ব্যর্থতার পাশাপাশি তার বোলিং রোটেশন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। জিম্বাবুয়ের ৮ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও প্রতিপক্ষকে দ্রুত অলআউট করতে তাসকিন বা মুস্তাফিজের মতো পেসারদের ব্যবহার না করে তিনি নিজে এবং রিশাদকে বোলিংয়ে আনেন। এই সুযোগে নবম উইকেটে ৬৩ রানের জুটি গড়ে জিম্বাবুয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, যা বাংলাদেশের বিপক্ষে দলটির সর্বোচ্চ নবম উইকেট জুটি। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, সেই সময় অভিজ্ঞ পেসারদের ব্যবহার করাটাই ছিল যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।
দ্বিতীয় ম্যাচেও অধিনায়ক হিসেবে ব্যর্থতার পরিচয় দেন মিরাজ। দলের জয়ের জন্য শেষ ১২ বলে যখন ১৩ রান দরকার, তখন নিজে ২৭ রানে অপরাজিত থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বশীল হওয়ার বদলে ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন। অভিজ্ঞ ক্রিকেট বিশ্লেষক ও সাবেক খেলোয়াড়দের মতে, ১১ নম্বর ব্যাটারকে সঙ্গে নিয়ে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে ম্যাচ জেতানোই ছিল অধিনায়কের কাজ।
পাশাপাশি অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেনকে পর্যাপ্ত বোলিং না দেওয়া এবং শামীম হোসেন, সাইফ হাসান ও রিশাদ হোসেনের মতো খেলোয়াড়দের যথাযথভাবে ব্যবহার করতে না পারার অভিযোগও রয়েছে মিরাজের বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের আগে মিরাজের অধিনায়কত্ব নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে হলে তাকে দ্রুতই কৌশল ও নেতৃত্বে আরও বেশি পরিণত হতে হবে।