লিড নিউজ, শিক্ষা

লিড নিউজ, শিক্ষা

খাতা মূল্যায়নে ত্রুটির আশঙ্কা

হলি ক্রসের কেউ প্রাথমিক বৃত্তি পায়নি, তদন্ত দাবি

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর রাজধানীর অন্যতম শীর্ষ ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ তেজগাঁওয়ের হলি ক্রস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফলে চরম বিস্ময় ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। এবার প্রতিষ্ঠানটির পঞ্চম শ্রেণির কোনো শিক্ষার্থীই ট্যালেন্টপুল বা সাধারণ— কোনো গ্রেডেই বৃত্তি পায়নি। এ ঘটনায় খাতা মূল্যায়নে বড় ধরনের ত্রুটির আশঙ্কা প্রকাশ করে অবিলম্বে পুনঃমূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও বিশ্লেষকরা।

প্রতি বছর মেধা তালিকায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা একটি প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফল পুরো ফলাফল প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিক্ষা বিশ্লেষক আশীষ মল্লিক। তিনি এই নজিরবিহীন ফলাফলকে ‘মেধার ওপর কুঠারাঘাত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

এক বিশ্লেষণে তিনি বলেন, ‘যে ছাত্রীরা কঠোর প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে হলি ক্রসে পড়ার সুযোগ পায় এবং বছরজুড়ে কঠোর একাডেমিক শৃঙ্খলার মধ্যে বড় হয়, তারা সবাই একসঙ্গে কীভাবে ব্যর্থ হতে পারে? একটি বা দুটি শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটতেই পারে, কিন্তু একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের পুরো ব্যাচের একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি পাবে না— এটি কোনো সাধারণ ঘটনা হতে পারে না।’

তিনি আরও শঙ্কা প্রকাশ করেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বিশাল কোনো গলদ রয়ে গেছে। যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা যদি তাদের প্রাপ্য মূল্যায়ন না পায়, তবে গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর থেকেই মানুষের আস্থা উঠে যাবে।

ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই হলি ক্রসের শিক্ষার্থীদের মাঝে নেমে এসেছে তীব্র মানসিক হতাশা। কোমলমতি শিশুদের আত্মবিশ্বাসে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন।

চিঠিতে তারা তীব্র আবেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের মেধা নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলার জবাব কে দেবে? একজন অভিভাবক হিসেবে আজ বুক ফেটে কান্না আসছে। আমরা জানি, এই স্কুলে বিন্দুমাত্র ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই। শিক্ষিকাদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর বাচ্চাদের মেধার জোরে প্রতি বছর এই স্কুল সাফল্যের শিখরে থাকে।’

খাতা মূল্যায়ন নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে অভিভাবকরা বলেন, ‘আমাদের বাচ্চাদের খাতা কি আদৌ সঠিকভাবে দেখা হয়েছে? নাকি বেসরকারি স্কুলের ট্যাগ থাকার কারণে তাদের নম্বর কেটে পেছনে ঠেলে দেওয়া হয়েছে?’

ফলাফলের এই বিপর্যয়ে শিশুদের মানসিক অবস্থা তুলে ধরে এক অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, ‘যে সন্তানরা পরীক্ষা দিয়ে হেসে বাড়ি ফিরেছিল, আজ তারা নিজেদের অপরাধী ভাবছে। এই মানসিক ট্রমার দায় কে নেবে?’

এই ‘অবাস্তব’ ফলাফল কোমলমতি শিশুদের মনে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করবে উল্লেখ করে অভিভাবকরা বলেন, ‘আমরা কোনো দয়া চাচ্ছি না, আমরা আমাদের সন্তানদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন চাচ্ছি।’

ফলাফলের পেছনে কোনো বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি বা গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে দ্রুত হলি ক্রস স্কুলের শিক্ষার্থীদের খাতা পুনঃমূল্যায়ন (রি-চেক) করে এই প্রশ্নবিদ্ধ ফলাফলের পেছনের রহস্য উন্মোচনের জোর দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত