
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে হরমুজ প্রণালি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। শনিবার (১১ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
আইআরজিসির ভাষ্যমতে, বিদেশি শক্তির অবৈধ হস্তক্ষেপের কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তারা এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ না করা পর্যন্ত কোনো জাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে আইআরজিসির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সহায়তাকারী দেশগুলোকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যদি ইরানের ওপর নতুন কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়, তবে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এমন পরিস্থিতিতে অঞ্চলে অবস্থিত শত্রুপক্ষের সামরিক ঘাঁটিগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে এবং এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেই নিতে হবে।
এর আগে, হরমুজ প্রণালিতে দায়িত্ব পালনকালে আইআরজিসির নির্দেশ অমান্য করায় একটি জাহাজের ওপর সতর্কতামূলক গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। আইআরজিসির দাবি, ওই জাহাজটি তাদের যোগাযোগ ও নজরদারি ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল, যা সমুদ্রপথের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি প্রতিকূল দেশ ও তাদের মিত্রদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও জুন মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর একটি সমঝোতা হয়েছিল এবং ওয়াশিংটন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি করেছিল, তবুও অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় ইরান এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বজায় রেখেছে।
উল্লেখ্য যে, মে মাস থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে। এর আওতায় জাহাজগুলোকে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং নির্ধারিত নৌপথ অনুসরণ করে চলাচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।